আমাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিনWhatsApp
উলিপুরের ক্ষীরমোহন: ইতিহাস, দাম ও কোথায় পাবেন

উলিপুরের ক্ষীরমোহন: ইতিহাস, দাম ও কোথায় পাবেন

উলিপুরের ক্ষীরমোহন কুড়িগ্রামের সবচেয়ে পরিচিত মিষ্টি। রসগোল্লার মতো শুধু চিনির রসে ভাসে না; ছানার নরম “মোহন” থাকে ঘন, এলাচ-সুগন্ধি দুধের ক্ষীরের ভেতর। ক্ষীর আর মোহন মিলেই নাম ক্ষীরমোহন। দেখতে ঘি রঙের, পটলের মতো একটু লম্বাটে।

ক্ষীরমোহনের ইতিহাস

স্থানীয় বিবরণ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৮ সালে তৎকালীন ফরিদপুরের গোয়ালন্দ থেকে আসা সুধীর সরকার (সুধীর ময়রা) উলিপুরে কছির মিয়ার রেস্তোরাঁয় কারিগর হিসেবে কাজ নিয়ে প্রথম এই মিষ্টি বানান। দ্রুতই এটা জনপ্রিয় হয়। পরে মনমোহন হালাইসহ অন্য কারিগররাও বানাতে শুরু করেন, আর ক্ষীরমোহন ছড়িয়ে পড়ে পুরো উলিপুরে।

কীভাবে তৈরি হয়

  1. তাজা ছানার সঙ্গে সামান্য ময়দা, চিনি আর এলাচ মিশিয়ে নরম মণ্ড বানানো হয়।
  2. মণ্ড থেকে লম্বাটে গোল মোহন গড়ে চিনির শিরায় জ্বাল দেওয়া হয়।
  3. আলাদা করে খাঁটি গরুর দুধ অনেকক্ষণ জ্বাল দিয়ে ঘন ক্ষীর বানানো হয়।
  4. মোহনগুলো ক্ষীরে দিয়ে আবার অল্প জ্বাল দেওয়া হয়, তারপর কয়েক ঘণ্টা রেখে দিলে ক্ষীর ভেতর পর্যন্ত ঢুকে যায়।

এক কেজি ভালো ক্ষীরমোহনে প্রায় সাড়ে ৩ কেজি দুধ লাগে। তাই দুধের দাম বাড়লে ক্ষীরমোহনের দামও বাড়ে।

দাম কত

দোকানভেদে প্রতি কেজি সাধারণত ৪০০–৫০০ টাকা, প্রতি পিস ৪০–৫০ টাকা। ঈদ-পূজায় দাম একটু বাড়ে। (সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুযায়ী; কেনার আগে দোকানে জেনে নিন।)

কোথায় পাবেন

উলিপুর বাজারের পুরনো মিষ্টির দোকানগুলোতে পাওয়া যায়। সবচেয়ে পরিচিত নাম পাবনা ভাগ্যলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডার, ওকে হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট-এর ঠিক সামনে। এখান থেকে অন্য জেলাতেও পাঠানো হয়। কুড়িগ্রাম শহরে থাকলে উলিপুর বাসে বা সিএনজিতে ৪০–৫০ মিনিটের পথ।

কুড়িগ্রামে এলে একবার হলেও উলিপুরের ক্ষীরমোহন চেখে দেখুন। দূরের আত্মীয়ের জন্য উপহার হিসেবেও এটা স্থানীয়দের প্রথম পছন্দ।

আরও দেখুন

তথ্য হালনাগাদ: সেপ্টেম্বর ২০২৬। কোনো তথ্য ভুল মনে হলে আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

কুড়িগ্রাম জেলার হাসপাতাল, স্কুল, হোটেল, বাস,
সরকারি অফিস — সব দরকারি তথ্য ও ঠিকানা
এক জায়গায়।

ফেসবুক পেজ
hello@touhid.bd

© 2026 Kurigram.info