Bhurungamari Upazila
ভূরুঙ্গামারী কুড়িগ্রাম জেলার একেবারে উত্তরের সীমান্ত উপজেলা; তিন দিকেই ভারত। সোনাহাট স্থলবন্দর আর দুধকুমার নদের সোনাহাট সেতুর জন্য এটি পরিচিত।


ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিচিতি

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার অবস্থান ও আয়তন
ভূরুঙ্গামারী উপজেলাটি কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থিত। এ উপজেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং আসাম; দক্ষিণে নাগেশ্বরী উপজেলা, পূর্বে ভারতের আসাম, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
জনসংখ্যার উপাত্ত
- জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী জনসংখ্যা ২,৫৫,৫৪৮ জন, খানা ৬৯,১২০টি। ২০১১ সালে ছিল ২,৩১,৫৩৮ জন।
প্রশাসন সংক্রান্ত তথ্য
সংসদীয় এলাকার সংখ্যা:
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা কুড়িগ্রাম – ১ সংসদীয় এলাকার অধীন; যা নাগেশ্বরী এবং ভূরুঙ্গামারী নিয়ে গঠিত।
ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা:
মোট ১০ টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ।
- পাথরডুবি,
- শিলখুড়ি,
- তিলাই,
- পাইকেরছড়া,
- ভূরুঙ্গামারী,
- জয়মনিরহাট,
- আন্ধারীঝাড়,
- বলদিয়া ইউনিয়ন,
- চরভূরুঙ্গামারী,
- বঙ্গসোনাহাট
গ্রামের সংখ্যা:
ভূরুঙ্গামারী উপজেলাতে ১২৮টি গ্রাম রয়েছে।
শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য
এখানে রয়েছে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নানা প্রতিষ্ঠান, যা গড়ে তুলছে জ্ঞানপিপাসু নতুন প্রজন্ম।
- সাক্ষরতার হার: ৬৩.০৬% (জনশুমারি ২০২২); ২০১১ সালে ৩৯.৫৭%
- কলেজ: ৫টি (সরকারি কলেজ ১টি)
- বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ৩৪টি
- বালিকা বিদ্যালয়: ৫টি
- জুনিয়র হাইস্কুল: ৩ টি
- ইবতেদায়ী মাদ্রাসা: ১৯টি
- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১১২টি
- বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১টি
- কিন্ডারগার্টেন:৩৭ টি
অর্থনীতি সংক্রান্ত তথ্য
মূলত কৃষি নির্ভর অর্থনীতি। তবে ব্যাবসার দিক থেকেও ভূরুঙ্গামারী এখন বেশ এগিয়ে রয়েছে। দু-একটি করে কারখানা স্থাপন শুরু হয়েছে। এছাড়াও বঙ্গ সোনাহাটে স্থলবন্দর হওয়াতে ইমপোর্ট ও এক্সপোর্টের ব্যাবসায় বেশ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা
ভূরুঙ্গামারীর যোগাযোগ ব্যাবস্থা বেশ ভালো। এখানে বেশিরভাগ রাস্তা গুলো পাকা করা হয়েছে। আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পাকা করা বাকি আছে। তবে এখানে সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিক্সা, অটোরিক্সা, কার ইত্যাদির মাধ্যমে চলাচল করা হয়। ভূরুঙ্গামারী থেকে বাইরে যাওয়ার জন্য কার, মাইক্রোবাস, বাস, কোচ ইত্যাদি ব্যাবহার করা হয়
দর্শনীয় স্থান সমূহের তালিকা
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস এবং সংস্কৃতি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। উপজেলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটন ও সাংস্কৃতিক স্থান।
পাটেশ্বরী/সোনাহাট ব্রিজ

দুধকুমার নদের ওপর ব্রিটিশ আমলের পুরনো রেলসেতুটি এখনো সোনাহাট স্থলবন্দরের পথে যোগাযোগের ভরসা। পাশেই নতুন সোনাহাট সেতুর কাজ চলছে (বিস্তারিত)। নদী আর সেতুর দৃশ্য দেখতে বিকেলে অনেকে আসেন।
মীর জুমলা প্রাচীন মসজিদ

মোগল সুবাদার মীর জুমলার আসাম অভিযানের (১৬৬১–৬২) সময় নির্মিত বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত এই মসজিদ উপজেলার পুরনো স্থাপনাগুলোর একটি।

সোনাহাট স্থলবন্দর উপজেলার একটি অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র। স্থলবন্দরটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলির মধ্যে একটি। স্থলবন্দরটি থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর বাড়ি

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ভূরুঙ্গামারীতে যে বাড়িতে অবস্থান করতেন, সেটি স্থানীয়ভাবে “ভাসানীর বাড়ি” নামে পরিচিত।
১৯৬৫ সালের ভুরুঙ্গামারীতে কৃষক সন্মেলনকে কেন্দ্র করে তিন মাস এই বাড়িতে ছিলেন ভাসানী।
এছাড়াও এই বাড়িতে এসেছেন হাজী দানেশ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, রাশেদ খান মেনন, শামসুল হক চৌধুরীসহ অনেক নেতা।
এই বাড়িকে ঘিরেই ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত হয়।
১৯৭৬ সালে সর্বশেষ সীমান্ত সফরে এসে মাওলানা ভাসানী এই বাড়িতে এসেছিলেন।
জয়মনিরহাট জমিদার বাড়ি

জয়মনিরহাট জমিদার বাড়ি উপজেলার একটি অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন। জমিদার বাড়িটি ১৯শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল এবং এটি উপজেলার অন্যতম সুন্দর স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন।
বাগভান্ডার সুইস গেইট

এক নজরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা
| আয়তন | ২৩৬.২৬ বর্গ কিমি |
| জনসংখ্যা | ২,৫৫,৫৪৮ জন (জনশুমারি ২০২২) |
| ইউনিয়ন / পৌরসভা | ১০টি ইউনিয়ন |
| গ্রাম | ১২৮টি (৭০ মৌজা) |
| প্রধান নদ-নদী | দুধকুমার, ফুলকুমার |
| শিক্ষার হার | ৬৩.০৬% (২০২২) |
| ইতিহাস / প্রতিষ্ঠা | ১৯১৫ সালে থানা প্রতিষ্ঠা; ১৪ নভেম্বর ভূরুঙ্গামারী হানাদারমুক্ত দিবস |
| জেলা ও বিভাগ | কুড়িগ্রাম জেলা, রংপুর বিভাগ |
কুড়িগ্রাম শহর থেকে ভূরুঙ্গামারী: কীভাবে যাবেন
কুড়িগ্রাম শহর থেকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিমি; কুড়িগ্রাম–নাগেশ্বরী–ভূরুঙ্গামারী সড়কে বাসে প্রায় ১–১.৫ ঘণ্টা। ঢাকা থেকে সরাসরি ভূরুঙ্গামারীগামী বাস (নাবিল, হানিফ ইত্যাদি) চলে। এখান থেকে সোনাহাট স্থলবন্দর প্রায় ১৫ কিমি।
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আসার বাস ও ট্রেনের বিস্তারিত দেখুন: কুড়িগ্রামের যাতায়াত গাইড এবং ঢাকা টু কুড়িগ্রাম বাস ভাড়া ও সময়সূচী।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সরকারি অফিস ও জরুরি যোগাযোগ
- উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (UNO) কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা ভূমি অফিস — কর্মকর্তাদের নাম ও ফোন নম্বর ভূরুঙ্গামারী উপজেলা তথ্য বাতায়নে পাওয়া যায়।
- ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভূরুঙ্গামারী থানা — জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯।
- কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সের নাম্বার: জরুরি সেবার নাম্বার।
- জেলা ও উপজেলার সব সরকারি ওয়েবসাইট: কুড়িগ্রামের সরকারি ওয়েবসাইটের তালিকা।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কীসের জন্য বিখ্যাত?
সোনাহাট স্থলবন্দর, সোনাহাট রেলসেতু ও নতুন সেতু, মীর জুমলা প্রাচীন মসজিদ, মওলানা ভাসানীর বাড়ি, জয়মনিরহাট জমিদার বাড়ি।
ভূরুঙ্গামারী সম্পর্কিত লিস্টিং ও গাইড (Kurigram.info)
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় কয়টি ইউনিয়ন?
ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে; গ্রাম ১২৮টি।
ভূরুঙ্গামারীর আয়তন ও জনসংখ্যা কত?
আয়তন ২৩৬.২৬ বর্গ কিমি; জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী জনসংখ্যা ২,৫৫,৫৪৮ জন।
কুড়িগ্রাম থেকে ভূরুঙ্গামারী কত কিলোমিটার?
কুড়িগ্রাম শহর থেকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার।
সোনাহাট স্থলবন্দর কোথায়?
সোনাহাট স্থলবন্দর ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ভারতের আসাম সীমান্তে অবস্থিত; উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিমি।
তথ্যসূত্র
- ভূরুঙ্গামারী উপজেলা তথ্য বাতায়ন (সরকারি পোর্টাল)
- ভূরুঙ্গামারী উপজেলা — বাংলাপিডিয়া (জনসংখ্যা ২০১১)
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো — জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২
তথ্য হালনাগাদ: সেপ্টেম্বর ২০২৬। আদমশুমারির সংখ্যা উৎসভেদে ভিন্ন হতে পারে।