Raomari Upazila
রৌমারী উপজেলা বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।এটি মুক্তাঞ্চল উপজেলা হিসেবে খ্যাত।


রৌমারী উপজেলা পরিচিতি
রৌমারী ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব পাড়ে, তাই কুড়িগ্রাম শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। চিলমারী থেকে নৌপথে, অথবা জামালপুর–বকশীগঞ্জ হয়ে সড়কপথে যেতে হয়। জামালপুর কাছে হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে বাস যোগাযোগ বেশ ভালো।

রৌমারী নামকরণের ইতিহাস
ধারণা করা হয়, প্রাচীনকালে এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে রুই মাছ পাওয়া যেত, এ কারণে এ অঞ্চলটি ‘রুইমারী’ নামে পরিচিত ছিলো; যা কালক্রমে রৌমারী নামে রুপান্তরিত হয়।
রৌমারী উপজেলার অবস্থান ও আয়তন
কুড়িগ্রাম জেলার দক্ষিণাংশে রৌমারি উপজেলার অবস্থান। এ উপজেলার উত্তরে উলিপুর উপজেলা ও ভারতের আসাম, দক্ষিণে চর রাজিবপুর উপজেলা, পূর্বে ভারতের আসাম ও মেঘালয়, পশ্চিমে চর রাজিবপুর উপজেলা, চিলমারী উপজেলা ও উলিপুর উপজেলা।
জনসংখ্যার উপাত্ত
জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী রৌমারীর জনসংখ্যা ২,২৭,৫১৩ জন, খানা ৫৭,৫৬৯টি। ২০১১ সালে ছিল ১,৯৬,৪১৭ জন।
প্রশাসন সংক্রান্ত তথ্য
রংপুর জেলার অধীনে রৌমারী থানা গঠিত হয় ১৯০৮ সালে এবং ১৯৮৩ সালের ১ আগস্ট থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। এ উপজেলায় কোনো পৌরসভা নাই ও ৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম রৌমারী থানার আওতাধীন।
সংসদীয় এলাকার সংখ্যা:
রৌমারী তে ১টি সংসদীয় এলাকা রয়েছে । নাম ও এলাকা: কুড়িগ্রাম- ৪ (চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর)
ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা:
মোট ৬ টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ।
- রৌমারী
- যাদুর চর
- শৌলমারী
- দাঁতভাঙ্গা
- বন্দবেড়
- চর শৌলমারী
শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য
জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী রৌমারীর সাক্ষরতার হার ৬০.৫২% (পুরুষ ৬২.৮৫%, নারী ৫৮.৩০%); ২০১১ সালে ছিল ৩৪.৫৭%। উপজেলায় ৮টি কলেজ, ২টি কারিগরি কলেজ, ২৬টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৫টি মাদ্রাসা (ফাজিল ১, আলিম ১, দাখিল ১৩) রয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
কলেজ
- রৌমারী ডিগ্রি কলেজ (১৯৮৪)
- রৌমারী মহিলা ডিগ্রি কলেজ (১৯৯৫)
- যাদুর চর ডিগ্রি কলেজ (১৯৯৯)
- যাদুর চর মডেল কলেজ (১৯৯৯)
- চর শৌলমারী ডিগ্রী কলেজ(১৯৯৫)
- শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কলেজ,পাখিউড়া(২০১১)
- চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ(২০১৩)
উচ্চ বিদ্যালয়
- টাপুরচর উচ্চ বিদ্যালয়(১৯৪১)
- যাদুর চর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৬)
- রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৮)
- চর শৌলমারী বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়(১৯৭০)
- শৌলমারী এম আর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৮৬)
- চর শৌলমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- কাজাইকাটা জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়
- সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয
অর্থনীতি সংক্রান্ত তথ্য
রৌমারী উপজেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। তাছাড়া ওখানে ছোট ও মাঝারি ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
কৃষি
রৌমারী উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৫,৫৫৫ হেক্টর। এ উপজেলার জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৭৭.৪০%, অকৃষি শ্রমিক ৩.৫৭%, শিল্প ০.৮০%, ব্যবসা ৬.৪০%, পরিবহন ও যোগাযোগ ০.৫৭%, চাকরি ৩.২৫%, নির্মাণ ০.৪৯%, ধর্মীয় সেবা ০.১৫%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.০৭% এবং অন্যান্য ৭.৩০%।
ভূমিমালিক ৫৫.০৫%, ভূমিহীন ৪৪.৯৫%। শহরে ৪৫.৩৪% এবং গ্রামে ৫৬.৪৮% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।
প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, গম, আখ, ভুট্টা, সরিষা, বাদাম, তিল, শাকসবজি।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি খেসারি, ছোলা, অড়হর, তিসি, কাউন, চীনা, শন।
প্রধান ফল-ফলাদি আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা
রৌমারী উপজেলায় ৬৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৪৮৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ও ৩০ নটিক্যাল মাইল নদীপথ রয়েছে।
দর্শনীয় স্থান সমূহের তালিকা
রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য বহুল পরিচিত। এই উপজেলায় রয়েছে অসংখ্য পর্যটন ও সাংস্কৃতিক স্থান, যা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়।
বলদমারা ঘাট

ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অবস্থিত বলদমারা ঘাট থেকে নদীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এখানে নৌকা ভ্রমণ ও স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরার কাজ দেখা যায়।
পাখিউড়া ব্রিজ (চর শৌলমারী ইউনিয়ন)

চর শৌলমারী ইউনিয়নের এই ব্রিজ থেকে নদী আর আশপাশের গ্রামের খোলা দৃশ্য দেখা যায়। বিকেলে স্থানীয়রা হাঁটতে আসেন।
বড়াইবাড়ি

২০০১ সালের এপ্রিলে বড়াইবাড়ী সীমান্তে বিডিআর ও বিএসএফের সংঘর্ষে তিনজন বিডিআর সদস্য শহীদ হন। তাঁদের স্মরণে এখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
চানমারী

ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অবস্থিত এই গ্রামটি তার ঐতিহ্যবাহী নৌকা নির্মাণ শিল্পের জন্য বিখ্যাত। দর্শনার্থীরা নৌকা নির্মাণের কাজ দেখতে পারেন এবং নদীতে নৌকা ভ্রমণও উপভোগ করতে পারেন।
ফলুয়ার চর নৌকা ঘাট

এই নৌকা ঘাট থেকে ব্রহ্মপুত্র নদী পার হয়ে পশুর গাছপাতা ও নিরিব পরিবেশে বিখ্যাত ফলুয়ার চর দ্বীপে পৌঁছানো যায়।
রৌমারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে রৌমারীতে নির্মিত এই মিনারে দর্শনার্থীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে পারেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য করা ত্যাগের কথা জানতে পারেন।
এক নজরে রৌমারী উপজেলা
| আয়তন | ১৯৭.০৩ বর্গ কিমি |
| জনসংখ্যা | ২,২৭,৫১৩ জন (জনশুমারি ২০২২) |
| ইউনিয়ন / পৌরসভা | ৬টি ইউনিয়ন: রৌমারী, যাদুরচর, শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা, বন্দবেড়, চর শৌলমারী |
| গ্রাম | ১৯৮টি (২৯ মৌজা) |
| প্রধান নদ-নদী | ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম, সোনাভরি, হলহলিয়া |
| শিক্ষার হার | ৬০.৫২% (২০২২) |
| ইতিহাস / প্রতিষ্ঠা | মুক্তিযুদ্ধে সম্পূর্ণ মুক্তাঞ্চল; ১১ নং সেক্টরের গেরিলা যুদ্ধ এখান থেকে পরিচালিত হয় |
| জেলা ও বিভাগ | কুড়িগ্রাম জেলা, রংপুর বিভাগ |
কুড়িগ্রাম শহর থেকে রৌমারী: কীভাবে যাবেন
রৌমারী ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব পাড়ে হওয়ায় কুড়িগ্রাম শহর থেকে সরাসরি সড়ক নেই। চিলমারী নৌঘাট থেকে নৌকা/ফেরিতে রৌমারী ঘাট (নদীপথ), অথবা সড়কপথে জামালপুর–বকশীগঞ্জ হয়ে রৌমারী। ঢাকা থেকে সরাসরি রৌমারীগামী বাসও চলে।
ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আসার বাস ও ট্রেনের বিস্তারিত দেখুন: কুড়িগ্রামের যাতায়াত গাইড এবং ঢাকা টু কুড়িগ্রাম বাস ভাড়া ও সময়সূচী।
রৌমারী উপজেলার সরকারি অফিস ও জরুরি যোগাযোগ
- উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (UNO) কার্যালয়, উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা ভূমি অফিস — কর্মকর্তাদের নাম ও ফোন নম্বর রৌমারী উপজেলা তথ্য বাতায়নে পাওয়া যায়।
- রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রৌমারী থানা — জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯।
- কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সের নাম্বার: জরুরি সেবার নাম্বার।
- জেলা ও উপজেলার সব সরকারি ওয়েবসাইট: কুড়িগ্রামের সরকারি ওয়েবসাইটের তালিকা।
রৌমারী উপজেলা কীসের জন্য বিখ্যাত?
মুক্তিযুদ্ধের মুক্তাঞ্চল হিসেবে, বড়াইবাড়ী সীমান্ত ও স্মৃতিস্তম্ভ, আর ব্রহ্মপুত্র-জিঞ্জিরামের চর।
রৌমারী সম্পর্কিত লিস্টিং ও গাইড (Kurigram.info)
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
রৌমারী কোন জেলায় অবস্থিত?
রৌমারী উপজেলা রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তে অবস্থিত।
রৌমারী উপজেলায় কয়টি ইউনিয়ন?
রৌমারী উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন: রৌমারী, যাদুরচর, শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা, বন্দবেড় ও চর শৌলমারী।
কুড়িগ্রাম থেকে রৌমারী কীভাবে যাব?
চিলমারী নৌঘাট থেকে নৌপথে রৌমারী ঘাট, অথবা সড়কপথে জামালপুর–বকশীগঞ্জ হয়ে; ঢাকা থেকে সরাসরি বাসও আছে।
রৌমারী কেন মুক্তাঞ্চল হিসেবে খ্যাত?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় রৌমারী পাকিস্তানি বাহিনীর দখলমুক্ত ছিল এবং ১১ নং সেক্টরের যুদ্ধ এখান থেকে পরিচালিত হয়।
তথ্যসূত্র
তথ্য হালনাগাদ: সেপ্টেম্বর ২০২৬। আদমশুমারির সংখ্যা উৎসভেদে ভিন্ন হতে পারে।