Phulbari Upazila

ফুলবাড়ী কুড়িগ্রাম জেলার উত্তর-পশ্চিমে ধরলা নদীর পাড়ের একটি সীমান্ত উপজেলা। সাবেক ছিটমহল দাসিয়ারছড়া, নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি আর কুলারঘাটের দ্বিতীয় ধরলা সেতুর জন্য এটি পরিচিত।

ফুলবাড়ি উপজেলা পরিচিতি

ফুলবাড়ী উপজেলা বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা। এর উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা, পূর্বে নাগেশ্বরী এবং পশ্চিমে লালমনিরহাট সদর উপজেলা অবস্থিত। ফুলবাড়ী থানা ১৯১৪ সালে গঠিত হয় বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ রয়েছে। পরে ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় উন্নীত হয়। উপজেলা প্রশাসনের বর্ণনা অনুযায়ী, ২ জুলাই ১৯৮৩ থেকে উন্নীত উপজেলা হিসেবে কার্যক্রম শুরু হয়।

ফুলবাড়ি উপজেলা নামকরণের ইতিহাস

উপজেলা প্রশাসনের ইতিহাস অনুযায়ী, এ অঞ্চল একসময় কোচবিহারের মহারাজার পূর্বভাগ চাকলা এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। একটি প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, কোচবিহারের মহারাজা শ্রী জগদ্বীপেন্দ্র নারায়ণ ভূপ বাহাদুর ১৩২০ বঙ্গাব্দে (১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ) এলাকা পরিদর্শনের সময় ধরলা নদীর দুই তীরে কাশবন ও ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এর নাম “ফুলবাড়ী” রাখেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা – phulbari upazila

অবস্থান ও আয়তন

এই উপজেলাটি কুড়িগ্রাম জেলার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এর আয়তন ১৫৬.৬১ বর্গ কিলোমিটার। এ উপজেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, রাজারহাট উপজেলা ও লালমনিরহাট সদর উপজেলা, পূর্বে নাগেশ্বরী উপজেলা, পশ্চিমে লালমনিরহাট সদর উপজেলা।

জনসংখ্যার উপাত্ত

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী ফুলবাড়ি উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১,৮৬,৬৮২ জন। 

প্রশাসন সংক্রান্ত তথ্য

সংসদীয় এলাকার সংখ্যা:

ফুলবাড়ি উপজেলায় ১টি সংসদীয়  এলাকা রয়েছে ।  নাম ও এলাকা: কুড়িগ্রাম-২ (রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী)

ফুলবাড়ি উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা:

ফুলবাড়ী উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন রয়েছে।

•নাওডাঙ্গা

•শিমুলবাড়ী

•ফুলবাড়ী

•বড়ভিটা

•ভাঙ্গামোড়

•কাশীপুর

 

গ্রাম, মৌজা ও থানার সংখ্যা:

ফুলবাড়ি উপজেলায় মোট ৪৮টি মৌজা ও ১৬৬টি গ্রাম রয়েছে এবং একটি পুলিশ থানা—ফুলবাড়ী থানা রয়েছে। 

শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য

ফুলবাড়িতে রয়েছে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নানা প্রতিষ্ঠান, যা গড়ে তুলছে জ্ঞানপিপাসু নতুন প্রজন্ম। এখানে দীর্ঘদিনের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ  নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফুলবাড়ী জছিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কুরুষা ফেরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  এবং কয়েকটি মাদ্রাসাকে উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা যায়।

  • সাক্ষরতার হার: ৬৬.০১% (জনশুমারি ২০২২); ২০১১ সালে ৪৪.৭৬%
  • কলেজ: ৭টি
  • হাইস্কুল: ২৮টি
  • মাদ্রাসা: ২১টি
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১২৯টি
  • কিন্ডারগার্টেন স্কুল: ৫ টি
  • প্রতিবন্ধিদের জন্য বিদ্যালয়: ৩ টি

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও ফুলবাড়ীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ২৭ মার্চ ১৯৭১ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘর্ষ হয় এবং ইপিআর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান শহীদ হন। ২০ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনী ফুলবাড়ীতে প্রবেশের চেষ্টা করলেও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে। কুলাঘাটসহ উপজেলার আরও কয়েকটি স্থানে যুদ্ধের ঘটনা ঘটে

অর্থনীতি সংক্রান্ত তথ্য

ফুলবাড়ীর অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। এখানে মোট আবাদী জমি রয়েছে ১৩৫৫৬.৯১ একর।প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, গম, পাট, আলু, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন শাকসবজি। উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় আখ, ডাল, চিনাবাদাম, আদা, হলুদ ও মরিচেরও উল্লেখ রয়েছে।  আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেঁপে, জাম, পেয়ারা ও লেবুর মতো ফলও এ অঞ্চলে উৎপাদিত হয়। এছাড়া বাঁশের কাজ, মৃৎশিল্প, পাটের কাজ ও সূচিশিল্পের মতো কুটিরশিল্পের ঐতিহ্য রয়েছে। ফুলবাড়ীর উল্লেখযোগ্য হাট-বাজারের মধ্যে বালার হাট, ফুলবাড়ী হাট, খড়িবাড়ি হাট ও গঙ্গার হাট উল্লেখযোগ্য। কৃষিপণ্য কেনাবেচা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এসব বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

স্বাস্থ্যসেবা

ফুলবাড়ি উপজেলায় ১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কয়েকটি উপস্বাস্থ্য/স্যাটেলাইট কেন্দ্র এবং ক্লিনিক রয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

  • পাকা রাস্তা: ৬০.৬০ কি. মি
  • কাঁচা রাস্তা: ২২৯.২৯ কি. মি

দর্শনীয় স্থান সমূহের তালিকা

ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস এবং সংস্কৃতি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। উপজেলায় রয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটন ও সাংস্কৃতিক স্থান। ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে নাওডাঙ্গা জমিদারবাড়ি, ফুলসাগর লেক ও খানকা শরীফ। 

ফুল সাগর ও প্রেম সাগর

ফুল সাগর ও প্রেম সাগর

ফুলবাড়ী সদরের কাছে দুটি জলাধার। বিকেলে পরিবার নিয়ে বসার, হাঁটার জন্য স্থানীয়দের পছন্দের জায়গা।

ধরলা সেতু ও ধরলা নদী

ফুলবাড়ী উপজেলা, কুড়িগ্রাম – ছবি

ফুলবাড়ীর মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ধরলা নদী। কুলারঘাটে নির্মিত দ্বিতীয় ধরলা সেতু ফুলবাড়ীকে লালমনিরহাটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে; সেতু থেকে নদীর চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়।

নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি

নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি

ফুলবাড়ীর নাওডাঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি উপজেলার একটি অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন। ১৮শ শতাব্দীতে নির্মিত এই জমিদার বাড়িটিতে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী ও জমিদার পরিবারের ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে।

দাসিয়ারছড়া ছিটমহল

দাসিয়ারছড়া ছিটমহল

দাসিয়ারছড়া ছিল ভারতের কোচবিহারের একটি ছিটমহল, যা ২০১৫ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অংশ হয়। ছিটমহল বিনিময়ের ইতিহাস জানতে অনেকে এখানে আসেন।