আজ বাংলা কত তারিখ — ২০২৬ সালের বাংলা ক্যালেন্ডার ও সরকারি ছুটি
আজকের বাংলা তারিখ, ইংরেজি থেকে বাংলা তারিখ রূপান্তর, ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির পূর্ণ তালিকা আর কুড়িগ্রামের ফসল ও মৌসুমি ঝুঁকির পঞ্জিকা — সব এক পাতায়।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২৬ সালে মোট ২৮ দিন সরকারি ছুটি — ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি।
| তারিখ | বার | উপলক্ষ | ধরন |
|---|
চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল ছুটি: শবে বরাত, শবে কদর, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, আশুরা ও ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চূড়ান্ত করে। ২০২৬ সালের এই ছুটিগুলো ইতিমধ্যে পালিত হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপনের তারিখের সঙ্গেই মিলেছে।
এই তালিকায় নেই: ১৪তম সাধারণ ছুটি ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি — এটি শুধু রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার জন্য, কুড়িগ্রামে প্রযোজ্য নয়। তাই উপরের তালিকায় ২৭টি সারি। এছাড়া ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আলাদা প্রজ্ঞাপনে ছুটি ছিল, যা বার্ষিক তালিকার বাইরে।
ঐচ্ছিক ছুটি: ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষে প্রত্যেক কর্মচারী নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারেন — যেমন সরস্বতী পূজা, শিবরাত্রি, ইস্টার সানডে, মাঘী পূর্ণিমা, শব-ই-মিরাজ ইত্যাদি।
কুড়িগ্রামের কৃষি পঞ্জিকা
কুড়িগ্রামে চাষযোগ্য জমি প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর, আর জেলার ৪৬৯টি চরের একটা বড় অংশে শীতকালীন ফসল হয়। নিচের সময়সূচি মাঠের সাধারণ চক্র — আবহাওয়া ও নদীর পানির উপর প্রতি বছর কিছুটা হেরফের হয়।
| ফসল | বীজ বপন / রোপণ | কাটা / তোলা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| আমন ধান | জুলাই–আগস্ট | নভেম্বর–ডিসেম্বর | পুরোপুরি বৃষ্টিনির্ভর, জেলার সবচেয়ে বড় আবাদ |
| বোরো ধান | মধ্য নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি | এপ্রিল–জুন | সেচনির্ভর, খরচ সবচেয়ে বেশি |
| আউশ ধান | মার্চ–এপ্রিল | জুলাই–আগস্ট | বৃষ্টি-সহায়ক |
| পাট | মার্চ–এপ্রিল | জুলাই–আগস্ট (জাগ দেওয়া) | রংপুর অঞ্চলে কুড়িগ্রামেই সবচেয়ে বেশি পাট |
| ভুট্টা (রবি) | নভেম্বর–ডিসেম্বর | এপ্রিল–মে | আমন কাটার পরপরই; আবাদ দ্রুত বাড়ছে |
| আলু | নভেম্বর | ফেব্রুয়ারি–এপ্রিল | হিমাগারে সংরক্ষণ |
| মরিচ | বছরে তিনবার | গ্রীষ্মে দুইবার, শীতে একবার | চরের প্রধান অর্থকরী ফসল — জেলার প্রায় ৮০% মরিচ চরে |
| সরিষা | অক্টোবর–নভেম্বর | জানুয়ারি | আমন ও বোরোর মাঝের ফসল |
| গম | নভেম্বর | মার্চ | — |
মৌসুমি ঝুঁকির পঞ্জিকা
| সময় | ঝুঁকি | যা মাথায় রাখবেন |
|---|---|---|
| জুন–সেপ্টেম্বর | বন্যা | ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও তিস্তার পানি বাড়ে। বিপৎসীমা ছোঁয়ার আগেই চর তলিয়ে যায় |
| সেপ্টেম্বর–নভেম্বর | মঙ্গা (কাজের অভাব) | আমন রোপণ শেষ, কাটা শুরু হয়নি — দিনমজুরির চাহিদা সবচেয়ে কম |
| ডিসেম্বর–জানুয়ারি | শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশা | দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায়ই রাজারহাটে। কুয়াশায় দিনমজুরের কাজ বন্ধ থাকে |
| ডিসেম্বর–এপ্রিল | নদীর নাব্যতা সংকট | চরের নৌরুটে ডুবোচর জাগে, ফেরি-নৌকা বন্ধ বা ঘুরপথে চলে |
| সারা বছর | নদীভাঙন | জেলায় ভাঙনপ্রবণ তীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার; শুষ্ক মৌসুমেও ভাঙে |
যাচাই করে নিন: ছুটির চূড়ান্ত ও আইনি ভিত্তি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মূল প্রজ্ঞাপন (mopa.gov.bd)। অফিস, ব্যাংক বা স্কুলের ছুটি প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে।
আগামী বছরের ছুটির হিসাব দেখুন: সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৭।
বাংলা ক্যালেন্ডারের হিসাব কীভাবে হয়
বাংলাদেশে সরকারি বাংলা বর্ষপঞ্জি সর্বশেষ সংশোধন হয় ২০১৯ সালে, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ থেকে কার্যকর। এর আগের ১৯৬৬ সালের শহীদুল্লাহ কমিটির হিসাবের সঙ্গে এর পার্থক্য আছে, তাই পুরোনো নিয়মে হিসাব করলে তারিখ মিলবে না।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বৈশাখ থেকে আশ্বিন — এই ছয় মাস ৩১ দিন; কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও চৈত্র ৩০ দিন; আর ফাল্গুন ২৯ দিন, অধিবর্ষে ৩০ দিন। পহেলা বৈশাখ প্রতি বছর ১৪ এপ্রিলে স্থির।
এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় দিবসগুলোকে নির্দিষ্ট বাংলা তারিখে বেঁধে দেওয়া। সেই হিসাবে ২১ ফেব্রুয়ারি সবসময় ৮ ফাল্গুন, ২৬ মার্চ ১২ চৈত্র এবং ১৬ ডিসেম্বর ১ পৌষ। উপরের ক্যালকুলেটর এই নিয়মেই হিসাব করে — তারিখ বসিয়ে মিলিয়ে দেখতে পারেন।
২০২৬ সালে বঙ্গাব্দ কত?
১ জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চলেছে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। ১৪ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, যা চলবে ১৩ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত।
সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে ছুটি — পার্থক্য কী
সাধারণ ছুটি বাংলাদেশ সরকারের ছুটি সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী দেওয়া হয় এবং এ দিনগুলোতে আদালতসহ প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকে। নির্বাহী আদেশে ছুটি সরকার আলাদা আদেশে ঘোষণা করে; ব্যাংক, বিমা ও কিছু জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানে এর প্রয়োগ আলাদা হতে পারে। এর বাইরে আছে ঐচ্ছিক ছুটি — নিজ ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষে বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন।
কৃষি ও মৌসুম
কুড়িগ্রামের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর — জেলার চাষযোগ্য জমি প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার হেক্টর, সেচের জন্য ৪২ হাজারের বেশি অগভীর নলকূপ। আমন পুরোপুরি বৃষ্টিনির্ভর, বোরো সেচনির্ভর, আর চরের জমিতে মরিচ এখন সবচেয়ে লাভজনক ফসল।
জমির পরিমাণ হিসাব করতে দেখুন জমির হিসাব ক্যালকুলেটর। জেলার নদ-নদী ও ভাঙন সম্পর্কে জানতে পড়ুন কুড়িগ্রাম জেলার নদ-নদী, আর হাট-বাজারের তথ্যের জন্য কুড়িগ্রামের হাট-বাজার।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
আজ বাংলা কত তারিখ?
উপরের ক্যালেন্ডারের প্রথম অংশে আজকের বাংলা তারিখ, বার ও ঋতু স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখাচ্ছে। পাতাটি খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তা হালনাগাদ হয়।
২০২৬ সালে মোট কত দিন সরকারি ছুটি?
মোট ২৮ দিন — ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি। এর বাইরে নির্বাচন উপলক্ষে ফেব্রুয়ারিতে আলাদা ছুটি ছিল।
পহেলা বৈশাখ কবে?
প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল। ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল ছিল মঙ্গলবার, শুরু হয় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ফাল্গুন মাস কত দিনের?
২০১৯ সালের সংশোধিত বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ফাল্গুন ২৯ দিনের, তবে অধিবর্ষে ৩০ দিন। এর আগের নিয়মে ফাল্গুন ৩০ দিনের ছিল ও অধিবর্ষে ৩১ — সেটি এখন আর প্রযোজ্য নয়।
ছুটির তালিকার সূত্র: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন। চূড়ান্ত ও আইনি ভিত্তির জন্য mopa.gov.bd-এর মূল প্রজ্ঞাপন দেখুন।