উলিপুর মুন্সিবাড়ী
উলিপুর মুন্সিবাড়ী উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নে একটি পুরোনো জমিদার-আমলের অট্টালিকা। উলিপুর বাজার থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে। বাড়িটি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে নিবন্ধিত।
অবস্থান
ধরণীবাড়ী ইউনিয়ন, উলিপুর, কুড়িগ্রাম। কুড়িগ্রাম শহর থেকে উলিপুর প্রায় ১৮ কিলোমিটার।
ইতিহাস

বিনোদী লাল মুন্সি কাশিমবাজারের জমিদার মহারাণী স্বর্ণময়ী দেবীর অধীনে হিসাবরক্ষকের কাজ করতেন। কথিত আছে, একদিন শিকারে গিয়ে তিনি দেখেন একটি ব্যাঙ একটি সাপকে ধরে খাচ্ছে। তখনকার বিশ্বাস ছিল, এমন জায়গায় বাড়ি করলে প্রচুর ধনসম্পদ হয়। সেই বিশ্বাসে জমিদারের অনুমতি নিয়ে তিনি ধরণীবাড়ীতে বাড়ি তৈরি শুরু করেন।
পরে তাঁর পালক ছেলে ব্রজেন্দ্র লাল মুন্সির তত্ত্বাবধানে বর্তমান অট্টালিকাটি তৈরি হয়। ভবনের একটি ফলকে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দ লেখা আছে, তাই নির্মাণকাল ধরা হয় উনিশ শতকের শেষ ভাগ। ব্রজেন্দ্র লালের স্ত্রী ছিলেন আশালতা মুন্সি। কিছু সূত্রমতে তাঁদের দুই মেয়ে ছিল এবং বড় মেয়ে সুচি রাণীর বিয়ে হয় কলকাতায়, যদিও স্থানীয়দের একাংশ বলেন পরিবারটির কোনো সন্তান ছিল না। ১৯৭১ সালে মুন্সি পরিবার কলকাতায় চলে যায়। স্থানীয়দের মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ছিল এবং পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় এর ক্ষতি হয়।
স্থাপত্য
ভবনটিতে মোগল ও ব্রিটিশ স্থাপত্যরীতির মিশ্রণ দেখা যায়। দোতলা মূল ভবনের নিচতলায় তিনটি বড় কক্ষ। মূল ভবনে শয়নকক্ষ, ডাইনিং হল, রান্নাঘর, অঙ্কনকক্ষ, বিশ্রামঘর ও অতিথিশালা আছে। পেছনে শিবমন্দির, খোলা দোলমঞ্চ, তুলসীবেদি, নাটমন্দির, দুর্গামন্দির এবং কূপসহ স্নানাগার। মূল ফটকের পাশে কাঁঠালিচাঁপা গাছ আর শানবাঁধানো পুকুরঘাট।
বর্তমান অবস্থা

সংস্কারের অভাবে বাড়িটির অবস্থা খারাপ। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে কক্ষ ও বারান্দায় পানি জমে। মন্দিরগুলো, শয়নকক্ষ, ডাইনিং হল, রান্নাঘর, ওপরতলার বিশ্রামঘর ও বাথরুমের অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকার আসাদগেট, কল্যাণপুর বা গাবতলী থেকে নাবিল, হক স্পেশাল, হানিফ, তানজিলা ও এনা পরিবহনের বাসে কুড়িগ্রাম যাওয়া যায়। কুড়িগ্রাম শহর থেকে ইজিবাইক বা CNG-তে উলিপুর বাজার, সেখান থেকে পাকা রাস্তা ধরে প্রায় ২ কিলোমিটার গেলেই মুন্সিবাড়ী।
কোথায় থাকবেন
কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়া ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের আশেপাশে কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে, যেমন হোটেল অর্ণব প্যালেস, হোটেল ডি.কে, হোটেল স্মৃতি, হোটেল নিবেদিকা ও হোটেল মেহেদী।
আরও দেখুন
তথ্য হালনাগাদ: সেপ্টেম্বর ২০২৬। কোনো তথ্য ভুল বা পুরনো মনে হলে আমাদের জানান।





মন্তব্য