সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
সোনাহাট স্থলবন্দর ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাটে, ভারতের আসামের ধুবড়ী জেলার গোলকগঞ্জ-সোনাহাট সীমান্তের বিপরীতে। বন্দরের কাজ দেখার পাশাপাশি এখানে গেলে দুধকুমার নদের ওপর ব্রিটিশ আমলের পুরোনো স্টিলের সেতু আর নির্মাণাধীন নতুন সেতুও দেখা হয়ে যায়।
অবস্থান ও যোগাযোগ
- ঠিকানা: সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
- ফোন (বন্দর অফিস): 01704-745477
- ইমেইল: sonahatlandportbsbk@gmail.com
কুড়িগ্রাম শহর থেকে নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী হয়ে সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কপথে (N512) দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। বাসে ভূরুঙ্গামারী গিয়ে সেখান থেকে অটোতে প্রায় ১৩ কিলোমিটার গেলেই বন্দর।
সংক্ষেপে বন্দরের তথ্য
- স্থলবন্দর ঘোষণা: ২৫ অক্টোবর ২০১২
- কার্যক্রম শুরু: ৯ জুন ২০১৮
- আয়তন: প্রায় ১৪.৬৮ একর
- অবকাঠামো: ওয়্যারহাউস, খোলা স্টক ইয়ার্ড, দুটি ওয়েব্রিজ স্কেল, প্রশাসনিক ভবন, ব্যারাক, ডরমিটরি ও টয়লেট কমপ্লেক্স
- ইমিগ্রেশন: এখনো চালু হয়নি, তাই এই পথে যাত্রী পারাপার হয় না
বন্দর দিয়ে কী বাণিজ্য হয়

কাগজে-কলমে পাথর, কয়লা, তাজা ফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানির অনুমতি আছে। বাস্তবে এখন মূলত পাথর আর কয়লাই আসে। ভারতের নানা জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর এই পথে দেশে ঢোকে। এই বন্দর দিয়ে এখনো রপ্তানি শুরু হয়নি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ব্রিটিশ আমলে সোনাহাট ছিল উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আসামের রেল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ১৮৮৭ সালে দুধকুমার নদের ওপর রেলসেতু তৈরি হয়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এই রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর চলাচল ঠেকাতে মুক্তিযোদ্ধারা সেতুর একটি অংশ উড়িয়ে দেন। পরে মেরামত করে সেতুটি সড়কপথ হিসেবে খুলে দেওয়া হয়।
বন্দরের সমস্যা
- বন্দরে যাওয়ার একমাত্র পথ ব্রিটিশ আমলের পুরোনো সেতুটি, যা এখনকার ভারী ট্রাকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে একাধিকবার পাথরবোঝাই ট্রাকের চাপে পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়েছে।
- দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ৬৪৫ মিটার লম্বা নতুন সোনাহাট সেতুর কাজ চলছে, তবে স্থানীয়দের অভিযোগ কাজ খুব ধীরে এগোচ্ছে।
- স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে একসময় দিনে প্রায় ২০০ ভারতীয় ট্রাক আসত, এখন তা ২০–৩০টিতে নেমেছে।
- ইমিগ্রেশন চালু না হওয়ায় মানুষের যাতায়াত ও পর্যটনের সুযোগ তৈরি হয়নি।

সম্ভাবনা
ঠিকমতো উন্নয়ন হলে সোনাহাট দিয়ে আসাম, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়তে পারে, যা উত্তরাঞ্চলে কর্মসংস্থান তৈরি করবে। ভুটানের জন্য কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমও অনেকটা এই বন্দরের ওপর নির্ভর করবে। ইমিগ্রেশন চালু হলে পণ্যের পাশাপাশি মানুষের যাতায়াত ও পর্যটনও বাড়বে।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
তথ্য হালনাগাদ: সেপ্টেম্বর ২০২৬। কোনো তথ্য ভুল বা পুরনো মনে হলে আমাদের জানান।





মন্তব্য