সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম

সোনাহাট স্থলবন্দর, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাটে অবস্থিত সোনাহাট স্থলবন্দর হলো বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত স্থল-বন্দরগুলোর একটি।

যদি কখনো না গিয়ে থাকেন তাহলে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। দেখে আসতে পারেন স্থলবন্দরের কার্যক্রম সমূহ। সেই সাথে আপনার ঘুরা হয়ে যাবে সোনাহাট পুরাতন স্টীল ব্রিজ এবং নির্মানাধীন নতুন ব্রিজ।

আসুন সোনাহাট স্থলবন্দর সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই।

Table of Contents

অবস্থান:

কুড়িগ্রাম সদর থেকে সোনাহাট স্থলবন্দর ৪৫ কি.মি.। কুড়িগ্রাম শহর থেকে ভূরুঙ্গামারী পর্যন্ত ৩২ কি.মি. বাসে গিয়ে এবং এর পর ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত ১৩ কি.মি. অটো তে খুব সহজেই সোনাহাট স্থলবন্দরে গিয়ে পৌছা যায়।

সংক্ষিপ্ত বর্ননা:

সোনাহাট স্থলবন্দর টি ২৫ অক্টোবর ২০১২ তারিখে ‘কাস্টমস স্টেশন’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়; এবং কার্যকরী বন্দর হিসেবে চালু হয় ৯ জুন ২০১৮ তে। 

বন্দর-অঞ্চল প্রায় ১৪.৬৮ একর এলাকা জুড়ে এবং এতে রয়েছে ওয়্যারহাউস, স্ট্যাক-ইয়ার্ড, ওয়েটব্রিজ, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক-ডরমিটরি, বাথরুম কমপ্লেক্স সহ ন্যূনতম বন্দর-ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

প্রতিবেশি ভারতের আসাম ও প্রয়োজনে নেপাল এবং ভূটানের সাথে নির্ধারিত পণ্য আমদানি/রপ্তানীর জন্য স্থলপথের একটা সক্রিয় কার্যকরী বন্দর কৌশল  তৈরি করা এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বন্দর দিয়ে কী কী বাণিজ্য হয়

Land Port

অনেক ধরনের পন্য যেমন, কয়লা, কাঠ/টিম্বার, পাথর, সিমেন্ট, রাসায়নিক সার, কসমেটিক পণ্য, পশু খাদ্য, বিভিন্ন ধরনের ফল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, ডাল, গম, বীজ, তামাক ইত্যাদি আমদানি-রপ্তানীর কথা থাকলেও মুলত এখন শুধু মাত্র পাথর এবং কয়লা আমদানি করা হয়।

বিপুল পরিমানে পাথর ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে এই পথেই বাংলাদেশে ঢোকে। যা বাংলাদেশের পাথরের চাহিদা মেটাতে অনেক অবদান রাখে।

এই পথে এখনো পন্য অন্য দেশে রপ্তানী কার্যক্রম শুরু হয় নি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

সোনাহাট ব্রিজ

সোনাহাট এলাকা টি ব্রিটিশ শাসনামলে রেল যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল। ১৮৮৭ সালে একটি রেল ব্রিজ নির্মাণ করা হয়, যা পরবর্তীতে রূপান্তরিত হয় উত্তর বাংলার সাথে ভারতের আসামে যাতায়াতের জন্য ব্রিটিশদের এক মাত্র পথ।  তবে ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগে সীমান্ত ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

এর পরে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের দমন করতে বোমা মারে স্টিলের ব্রিজ টি ভেঙে ফেলা হয়, পরবর্তিতে মেরামত করে রাস্তায় ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয় ব্রিজটি।

বন্দরের সমস্যা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ

  • ২০২৫ সালের জুনে একটি অংশের সেতুর ডেক  — ভারি পাথরবোঝাই ট্রাকের নিচে — ভেঙে পড়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ থমকে যায়, এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বন্দরের যোগাযোগ স্থলের এক মাত্র ব্রিজে। বন্দরজুড়ে পরিবহন ও ব্যবসায় বিরাট প্রভাব পড়ে চলেছে এর ফলে।

  • ব্রিটিশ-আমলে নির্মিত পুরনো সেতু আজকের ভারি গাড়ি ও ট্রাকের বোঝা-ভরন পরিবহনের জন্য “ঝুঁকিপূর্ণ” বলে ধরা হয়েছে।

  • নতুন একটি ৬৪৫ মিটার লম্বা কংক্রিট সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, তবে স্থানীয়রা বলছেন কাজ খুব ধীর গতিতে চলছে।

  • অতীতে দিনে ২০০-এর কাছাকাছি ভারতীয় ট্রাক বন্দর দিয়ে আসা-যাওয়া করতো; কিন্তু এখন প্রায় ২০-৩০-এ নেমে গেছে। ফলে আমদানী ও রপ্তানী কমে যাচ্ছে দিন দিন।
  • যদিও বন্দর আছে, তবে এখনও ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু হয়নি; ফলে মানুষের যাতায়াত ও সম্পর্কিত বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়েনি আজও।

কেন সোনাহাট স্থলবন্দরকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত আগামীর জন্য

সঠিকভাবে উন্নয়ন হলে, সোনাহাট বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশকে ভারতীয় আসাম, নেপাল ও ভূটানের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে সংযুক্ত করতে পারে — যা উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নিস্বন্দেহে সহায়ক ভুমিকা রাখবে।

ভুটানের সাথে চুক্তি হওয়া কুড়িগ্রাম অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম অনেক টাই নির্ভর করবে সোনাহাট স্থলবন্দরের ওপর তাই এর গুরুত্ব অনেক।

ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু হলে — শুধু পণ্য নয়, মানুষের যাতায়াত ও পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময়ও সম্ভব হতে পারে এই পথেই। পাশাপাশি, সেতু ও রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে — কারণ প্রতিদিন দেশের অনেক স্থান থেকে এখানে পর্যটক দের আগমন ঘটে, সেই সাথে বর্তমানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই যাচ্ছে।