চিলমারী-হরিপুর তিস্তা সেতু
চিলমারী-হরিপুর তিস্তা সেতু তিস্তা নদীর ওপর বানানো সড়ক সেতু। এক পাশে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা, অন্য পাশে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন। সেতুর আনুষ্ঠানিক নাম মওলানা ভাসানী সেতু, তবে লোকে একে হরিপুর ব্রিজ বা চিলমারী সেতু নামেও চেনে। ২০ আগস্ট ২০২৫ থেকে সেতু দিয়ে গাড়ি চলছে।

এক নজরে
- নদী: তিস্তা
- আনুষ্ঠানিক নাম: মওলানা ভাসানী সেতু
- সংযোগ: চিলমারী (কুড়িগ্রাম) ↔ হরিপুর, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
- দৈর্ঘ্য: ১,৪৯০ মিটার (প্রায় দেড় কিলোমিটার)
- প্রস্থ: ৯.৬ মিটার
- ধরন: পিসি (প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট) গার্ডার সেতু, ২৮টি স্প্যান
- ভিত্তিপ্রস্তর: জানুয়ারি ২০১৪
- উদ্বোধন: ২০ আগস্ট ২০২৫; উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
- অর্থায়ন: বাংলাদেশ সরকার, সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (SFD) ও ওপেক ফান্ড (OFID)
- ব্যয়: সংযোগ সড়কসহ পুরো প্রকল্পে প্রায় ৯২৫ কোটি টাকা (বাসস-এর হিসাব)
- বাস্তবায়ন: এলজিইডি; নির্মাণ করেছে চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন
সেতুটি কেন দরকারি
সেতু হওয়ার আগে চিলমারী আর সুন্দরগঞ্জের মধ্যে তিস্তা পার হতে হতো নৌকায়। সময় লাগত বেশি, ঝুঁকিও ছিল। এখন দুই জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ হয়েছে, আর চিলমারী-উলিপুরের দিক থেকে গাইবান্ধা হয়ে ঢাকা যাওয়ার পথ ছোট হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের হিসাবে দূরত্ব কমেছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার।
- কৃষি ও ব্যবসা: ধান, ভুট্টা, আলু, সবজি, মাছ, গবাদিপশু কম খরচে ও তাড়াতাড়ি বড় বাজারে পাঠানো যায়। চিলমারী নদীবন্দরের সঙ্গেও সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়েছে।
- চিকিৎসা ও পড়াশোনা: জরুরি রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সরাসরি নদী পার হতে পারে। শিক্ষার্থীরা দুই জেলার স্কুল-কলেজে সহজে যাতায়াত করতে পারে।
- ঘোরাঘুরি: তিস্তার চর আর দেড় কিলোমিটার লম্বা সেতু দেখতে আশপাশের অনেকে বিকেলে এখানে আসেন।
কীভাবে যাবেন
কুড়িগ্রাম থেকে চিলমারী উপজেলা সদর (থানাহাট) হয়ে মাটিকাটা মোড় দিয়ে সেতুর সংযোগ সড়কে ওঠা যায়। গাইবান্ধার দিক থেকে সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর বাজার হয়ে সেতুতে যেতে হয়। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, সিএনজি, লোকাল বাস বা নিজের গাড়িতে যাওয়া যায়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
হরিপুর ব্রিজ কোন নদীর ওপর?
তিস্তা নদীর ওপর। সেতুটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুর আর কুড়িগ্রামের চিলমারীকে যুক্ত করেছে।
হরিপুর ব্রিজ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
হরিপুর ব্রিজ তিস্তা নদীর তীরে, ঠিক তিস্তার ওপর দিয়ে। সেতুর এক প্রান্তে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, অন্য প্রান্তে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা। এর কাছেই তিস্তা ব্রহ্মপুত্রে গিয়ে মিশেছে।
হরিপুর ব্রিজ কত কিলোমিটার লম্বা?
১,৪৯০ মিটার, মানে প্রায় দেড় কিলোমিটার। প্রস্থ ৯.৬ মিটার।
গাইবান্ধা শহর থেকে হরিপুর ব্রিজ কত দূরে?
সুন্দরগঞ্জ হয়ে সড়কপথে মোটামুটি ৪০–৫০ কিলোমিটার, রুট ভেদে কমবেশি হয়। চিলমারী উপজেলা সদর থেকে সেতু মাত্র কয়েক কিলোমিটার।
তিস্তার ওপর এটি কততম সড়ক সেতু?
তৃতীয়। প্রথমটি ২০১২ সালে লালমনিরহাটের গোকুন্ডায় (৭৫০ মিটার), দ্বিতীয়টি ২০১৮ সালে রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুরে (৮৫০ মিটার)। তিনটির মধ্যে হরিপুর সেতুই সবচেয়ে লম্বা।
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
তথ্য হালনাগাদ: সেপ্টেম্বর ২০২৬। কোনো তথ্য ভুল বা পুরনো মনে হলে আমাদের জানান।







1 Comment