কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলো উত্তরবঙ্গের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার এক নতুন দিগন্ত।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, বিশেষ করে রংপুর বিভাগ, কৃষিনির্ভর একটি অঞ্চল। এখানকার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা কৃষির ওপরই বেশি নির্ভরশীল। এই অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন, গবেষণা এবং শিক্ষাকে আরও গতিশীল করতে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, বরং উত্তরবঙ্গের কৃষি খাতের উন্নয়নে একটি অমুল্য মাইলফলক।

Table of Contents

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও চাহিদা। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা বহুদিন ধরে সবাই অনুভব করে যাচ্ছিলো। ২০২১ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় এবং ২০২৩ থেকে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুতই কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিছিতি পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো কৃষি শিক্ষা, গবেষণা এবং সম্প্রসারণ এর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের কৃষি খাতকে আধুনিকীকরণ করা। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্দেশ্য হলো:

কৃষি শিক্ষার প্রসার: কৃষি সম্পর্কিত উচ্চশিক্ষা প্রদান করা এবং দক্ষ ও যোগ্য কৃষিবিদ তৈরি করা।

গবেষণা কার্যক্রম: ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবন করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে গবেষণা করা।

টেকসই কৃষি: টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির প্রচার ও প্রসার করা।

কৃষকদের প্রশিক্ষণ: স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করা এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

logo

উপাচার্য

নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে দায়িত্ব পালন করেন:

অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন (৮ মে ২০২২ – ২০২৪)

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম (২ ডিসেম্বর ২০২৪ – বর্তমান)

গবেষণা ও উদ্ভাবন

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে তুলেছে এর গবেষণা কার্যক্রম। এখানে ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যায়ে গবেষণা করা হয়। কিছু উল্লেখযোগ্য গবেষণা কার্যক্রম হলো:

জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন: উত্তরবঙ্গের চরম আবহাওয়ায় টেকসই থাকতে পারে এমন ফসলের জাত নিয়ে গবেষণা করা।

জৈব কৃষি: জৈব কৃষি পদ্ধতির প্রচার-প্রসার করা এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ: কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

শেষ কথা

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি খাতের উন্নয়নে একটি আশার আলো হয়ে দারিয়েছে। এটি শুধু কৃষি শিক্ষার প্রসারই নয়, বরং সম্প্রসারণ ও গবেষণার মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের কৃষি খাত আরও গতিশীল হবে এবং বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে্র পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আপনিও যদি কৃষি নিয়ে আগ্রহী হন বা কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে চান, তাহলে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে আপনার জন্য একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট – https://kuriau.edu.bd/