







Kurigram Railway Station
- by Touhid
- Train
- 3 months ago
- 184 views
কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন: উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম, বহুদিন ধরেই যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে ছিল। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ অসংখ্য নদ-নদী বেষ্টিত এই জেলার মানুষের প্রধান পরিবহন মাধ্যম ছিল নৌপথ ও সড়কপথ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেলপথের উন্নয়ন কুড়িগ্রামের মানুষের যাতায়াতের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন।
অবস্থান ও ঠিকানা
ঠিকানাঃ নতুন রেলষ্টেশন, রংপুর-কুড়িগ্রাম হাইওয়ে সংলগ্ন, খলিলগঞ্জ, কুড়িগ্রাম।

ইতিহাস ও পটভূমি
কুড়িগ্রামে রেল সংযোগের দাবি ছিল বহুদিন ধরে। স্বাধীনতার পর থেকে কয়েক দশক ধরে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা এই অঞ্চলে রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলো। অবশেষে ২০১০ সালের দিকে বাংলাদেশ সরকার লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম রেললাইন প্রকল্প গ্রহণ করে, যা উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে।
২০১৮ সালের শেষ দিকে রেললাইন নির্মাণ শেষ হয় এবং ২০১৯ সালের শুরুতে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের নতুন যাত্রা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন।

অবস্থান ও কাঠামো
কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনটি জেলা শহরের রংপুর-কুড়িগ্রাম হাইওয়ে এর পাশে, সদর উপজেলার কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় অবস্থিত। এটি চিলমারি-পার্বতীপূর & কুড়িগ্রাম-ঢাকা মিটারগেজ লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন।
স্টেশনটির মূল ভবন আধুনিক নকশায় নির্মিত, স্টেশনে রয়েছে একটি দুই-প্ল্যাটফর্ম বিশিষ্ট রেললাইন, যা একযোগে দুই দিকের ট্রেন পরিচালনা সহজ করে। আরও কিছু সুবিধা;-
আধুনিক টিকেট কাউন্টার
যাত্রী বিশ্রামের ব্যবস্থা
প্রয়োজনীয় ওয়েটিং রুম
পরিচ্ছন বাথরুম
প্রশস্ত প্ল্যাটফর্ম
স্টেশন চত্বরটি সবুজায়নে ভরপুর, যা যাত্রীদের জন্য মনোরম পরিবেশ তৈরি করে।

রেলসংযোগ ও যাত্রাপথ
কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সহ, রমনা লোকাল এবং কুড়িগ্রাম শাটল ট্রেন টি চলমান রয়েছে কুড়িগ্রাম ষ্টেশন থেকে। কুড়িগ্রাম টু ঢাকা, চিলমারি টু পার্বতীপুর এবং কুড়িগ্রাম টু লালমনিরহাট রুটে ট্রেন চলাচল করে এখান থেকে। ওপরে একটি রুট এবং প্রাইস লিস্ট প্রদান করা হলো।
***বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন চালুর পর থেকে জেলার অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে দৃশ্যমান এক পরিবর্তন এসেছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব:
- বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি: রেলযোগে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় স্থানীয় কৃষি ও হস্তশিল্প পণ্য দ্রুত ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
- চাকরির সুযোগ: স্টেশনকে ঘিরে দোকানপাট, হোটেল, যাত্রীসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
- পর্যটন সম্ভাবনা: ধরলা নদী, চিলমারী ঘাট, রাজবাড়ি এলাকা ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য রেলযাত্রা এখন আরও বেশি আকর্ষণীয়।
সামাজিক প্রভাব:
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সুবিধা: ঢাকায় পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য যাতায়াত সহজ হয়ে উঠেছে।
- সংযোগ বৃদ্ধি: রাজধানীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে স্থানীয় মানুষের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
- দ্রুত সেবা: ডাক, জরুরি পার্সেল ও ভ্রমণ সংক্রান্ত সেবা আগের চেয়ে এখন দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে কুড়িগ্রাম রেলপথকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশেষ করে চিলমারী পর্যন্ত নতুন ভাবে মিটারগেজ লাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নদীবন্দর ও ভারত সীমান্তের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ উন্নত করবে।
তবে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে:
- স্টেশনে পর্যাপ্ত পার্কিং ও যাত্রীসুবিধা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
- বর্ষাকালে রেললাইন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন দরকার।
কুড়িগ্রাম থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ স্থাপন।
মালবাহী ট্রেন সার্ভিস চালু করা।
যাত্রীদের জন্য টিপস
কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভ্রমণ করতে চাইলে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন:
টিকেট আগে থেকে বুক করে রাখুন – বিশেষত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে
স্টেশনে কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পৌছে যান।
জরুরি যোগাযোগ: রেলওয়ে হেল্পডেস্ক নম্বর সংগ্রহে রাখুন।
মৌসুমী বিবেচনা: শীতকালে উত্তরের এলাকায় কুয়াশার কারণে সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।
কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন শুধু একটি পরিবহন কেন্দ্র নয়, এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি। কুড়িগ্রাম রেল স্টেশন কুড়িগ্রামের জনজীবনে নতুন গতি এনেছে—যেখানে সময় বাঁচে, সংযোগ বাড়ে, আর দেশের প্রান্তিক জেলা ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় মূল স্রোতের সঙ্গেই।
Leave a Comment